ছবি: সংগৃহীত
ডেস্ক রিপোর্ট:
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সতর্কতা তুলে ধরেছেন।
সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে রনি বলেন, নেতৃত্বের চারপাশে সীমিত কিছু ব্যক্তির প্রভাব বাড়লে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। তিনি মনে করেন, দলের ভেতরে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত রাখা এবং মাঠপর্যায়ের নেতাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ব্যাংকার, অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করলে বাস্তব চিত্র বোঝা সহজ হবে। বৈদেশিক ঋণ, রিজার্ভ পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের তারল্য ও মূল্যস্ফীতির চাপ—এসব বিষয় শুরুতেই গুরুত্ব পাওয়ার কথা বলেন তিনি।
রনি আরও উল্লেখ করেন, মুদ্রার মানের চাপ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই বাজার ব্যবস্থাপনা, ডলার সংকট মোকাবিলা এবং খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে দেওয়ার ওপরও জোর দেন তিনি।
দলীয় ঐক্য প্রসঙ্গে রনি বলেন, দীর্ঘদিন আন্দোলনে যুক্ত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করলে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়তে পারে। কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দক্ষতা ও সততার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশাসন, ব্যাংক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব না দিলে ভবিষ্যতে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেতৃত্ব নিয়োগেও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি সংযত আচরণের পরামর্শ দিয়ে রনি বলেন, প্রতিশোধের বদলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পথ যতই সুগম মনে হোক, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দলীয় ঐক্য ও প্রশাসনিক সক্ষমতা—এই চারটি ক্ষেত্রে দৃঢ় ভিত্তি তৈরি না হলে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য অর্জন কঠিন হবে। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে।